‘আমার স্বামীর মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন ও মগজ বের হয়ে গেছে’

‘আমার স্বামীর মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন ও মগজ বের হয়ে গেছে’

সংগৃহীত ছবি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তাসহ চার আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রিকশাচালক শহীদ ইসমাইলের স্ত্রী লাকি বেগম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ জবানবন্দি দেন তিনি।

এ মামলার চার আসামির মধ্যে দুজন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সাবেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রেদোয়ানুল ইসলাম ও মেজর মো. রাফাত-বিন-আলম।

 

পলাতক অপর দুই আসামি হলেন পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান।

ছয়টি অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

 

জবানবন্দিতে লাকি বেগম বলেন, আমার স্বামী ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন। ওই বছরের ১৯ জুলাই বিকেল ৩টার দিকে অটোরিকশা চালানোর জন্য বাসা থেকে বের হন।

মাগরিবের নামাজের সময় আমার ছেলের বন্ধু এসে তাকে বলে, তোমার বাবা ডেল্টা কেয়ার হাসপাতালের সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন।সংবাদটি শোনার পর আমি ও আমার ছেলে অজ্ঞান হয়ে যাই। কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরলে দেখতে পাই, আমাদের একজন প্রতিবেশী রিকশাভ্যানে করে আমার স্বামীর মরদেহ বাসায় নিয়ে এসেছেন। তখন দেখতে পাই, আমার স্বামীর মাথার খুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে এবং মগজ বের হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, মাথায় গুলি লেগেছিল এবং সমস্ত শরীর রক্তাক্ত ছিল। তখন তার মাথা ব্যান্ডেজ করার জন্য বেটার লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাই। কারণ ব্যান্ডেজ না করে আমরা তাকে নাড়াচাড়া করতে পারছিলাম না। বেটার লাইফ হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় আমার স্বামীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারছিলাম না। তখন আমার দেবর বাড়ি থেকে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে বেটার লাইফ হাসপাতালে আসেন। এরপর আমি, আমার ছেলে ও নিকটাত্মীয়রা মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হই। যাওয়ার পথে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা আমাদের নানাভাবে হেনস্তা করে। তারা অ্যাম্বুলেন্স আটকিয়ে রাখে। তখন আমরা তাদের এ মর্মে মিথ্যা কথা বলি যে, আমার স্বামী দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তখন তারা অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দেয়।

২০ জুলাই মরদেহ দাফন করা হয় উল্লেখ করে লাকি বেগম বলেন, পরে ফেসবুক, ইউটিউব এবং খবর থেকে জানতে পারি, পুলিশ ও বিজিবির গুলিতে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন। রাফাত, রেদোয়ান, রাশেদুল ও মশিউর হচ্ছেন ওই পুলিশ ও বিজিবি, যাদের গুলিতে আমার স্বামী নিহত হয়েছেন। সাক্ষ্য দেওয়ার এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন লাকি বেগম। তিনি স্বামীর হত্যার বিচার দাবি করেন।

দেশ টাইমস প্রতিবেদন

স্বাগতম The Desh Times আপনাদের বিশ্বস্ত খবরের ঠিকানা। আমরা সত্যকে গুরুত্ব দিই, গুজবকে নয়। দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর, আমাদের মূল লক্ষ্য—নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা এবং দর্শকদের জন্য তথ্যপ্রাপ্তির স্বাধীনতা। আপনার বিশ্বাসই আমাদের প্রেরণা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *